চন্দ্রনাথ পাহাড় ও তার ইতিহাস

শহর থেকে দূরের কোলাহলমুক্ত নির্জনতা, চারদিকে সবুজ গাছপালা, মাঝে মাঝে পশু-পাখির ডাক আর শীতল বাতাস। এই রোমাঞ্চকর অনুভূতি আপনাকে দেবে এক পাহাড়সম মানসিক প্রশান্তি। হ্যাঁ, বলছিলাম সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কথা। কেন যাবেন চন্দ্রনাথ পাহাড়ে? আপনি যদি দুর্গম পাহাড়ি পথে হাঁটতে পছন্দ করেন, তবে চন্দ্রনাথ পাহাড় আপনার জন্যই।

চন্দ্রনাথ মন্দির:

বাংলাদেশের একটি জেলার নাম চট্টগ্রাম। আর সেই জেলার একটি উপজেলা সীতাকুণ্ড। সীতাকুন্ডের নিকটে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের উপরে অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির অন্যতম বিখ্যাত শক্তিপীঠ। সীতাকুণ্ড অপরূপ প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্যের লীলাভূমি । এ এলাকাকে হিন্দুদের বড় তীর্থস্থান বলাই ভালো । এখানের সর্বোচ্চ পাহাড় চুড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির । আর অন্যান্য আরো রয়েছে বড়বাজার পূজা মন্ডপ, ক্রমধেশ্বরী কালী মন্দির, ভোলানন্দ গিরি সেবাশ্রম, কাছারী বাড়ী, শনি ঠাকুর বাড়ী, প্রেমতলা, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবাশ্রম, শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, গিরিশ ধর্মশালা, দোল চত্বর, ননী গোপাল সাহা তীর্থযাত্রী নিবাস, তীর্থ গুরু মোহন্ত আস্তানা, বিবেকানন্দ স্মৃতি পঞ্চবটি, জগন্নাথ আশ্রম, শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, মহাশ্মশানভবানী মন্দির, স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির,গয়াক্ষেত্র, জগন্নাথ মন্দির, বিরুপাক্ষ মন্দির, পাতালপুরী, অন্নপূর্ণা মন্দির ইত্যাদি এখানে হিন্দু পবিত্র গ্রন্থসমূহ অনুসারে সতী দেবীর দক্ষিণ হস্তার্ধ পতিত হয়েছিল। সীতাকুন্ডের চন্দ্রনাথ মন্দির তীর্থযাত্রীদের জন্য এক পবিত্র স্থান। এর পুরনো নাম ছিলো “সীতার কুন্ড মন্দির”।

ইতিহাস:

রাজমালা অনুসারে প্রায় ৮০০ বছর পূর্বে গৌরের বিখ্যাত আদিসুরের বংশধর রাজা বিশ্বম্ভর সমুদ্রপথে চন্দ্রনাথে পৌঁছার চেষ্টা করেন। ত্রিপুরার শাসক ধন মানিক্য এ মন্দির থেকে শিবের মূর্তি তার রাজ্যে সরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বিভিন্ন তথ্য অনুসারে এখানের ইতিহাস সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য জানা যায়। প্রাচীন নব্যপ্রস্তর যুগে সীতাকুণ্ডে মানুষের বসবাস শুরু হয় বলে ধারনা করা হয়। এখান থেকে আবিষ্কৃত প্রস্তর যুগের আসামিয় জনগোষ্ঠীর হাতিয়ার গুলো তারই স্বাক্ষর বহন করে। ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শতাব্দীতে সম্পূর্ণ চট্টগ্রাম অঞ্চল আরাকান রাজ্যের অধীনে ছিল। এর পরের শতাব্দীতে এই অঞ্চলের শাসনভার চলে যায় পাল সম্রাট ধর্মপাল দ্বারা এর হাতে (৭৭০-৮১০ খ্রীঃ)। সোনারগাঁও এর সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ্ (১৩৩৮-১৩৪৯ খ্রীঃ) ১৩৪০ খ্রীষ্টাব্দে এ অঞ্চল অধিগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৫৩৮ খ্রীষ্টাব্দে সুর বংশের শের শাহ্ সুরির নিকট বাংলার সুলতানি বংশের শেষ সুলতান সুলতান গীয়াস উদ্দীন মুহাম্মদ শাহ্ পরাজিত হলে হলে এই এলাকা আরাকান রাজ্যের হাতে চলে যায় এবং আরাকানীদের বংশধররা এই অঞ্চল শাসন করতে থাকেন। পরবর্তীতে পর্তুগীজরাও আরাকানীদের শাসনকাজে ভাগ বসায় এবং ১৫৩৮ খ্রী: থেকে ১৬৬৬ খ্রী: পর্যন্ত এই অঞ্চল পর্তুগীজ ও আরাকানী বংশধররা একসাথে শাসন করে। প্রায় ১২৮ বছরের রাজত্ব শেষে ১৬৬৬ খ্রী: মুঘল সেনাপতি বুজরুগ উন্মে খান আরাকানীদের এবং পর্তুগীজদের হটিয়ে এই অঞ্চল দখল করে নেন।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের ট্রেনে ও বাসে যাওয়া যায়। বাসে ভাড়া পড়বে ৪৮০ টাকা এবং ঢাকায় ফেরার জন্য সীতাকুণ্ড থেকে সর্বশেষ বাস রাত সাড়ে বারটায়। কোন আন্তঃনগর ট্রেন সীতাকুণ্ড স্টেশনে থামে না। তাই রাতের চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনটাই সবচেয়ে উপযোগী ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে। কারণ, সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ আপনি সীতাকুণ্ড পৌঁছতে পারেবেন।

মহামায়া ইকো পার্ক: লেক পাহাড়ের এক অপরূপ মেলবন্ধন!

কায়াকিং সুবিধা

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লেক মীরসরাইয়ের মহামায়া। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি। ছোট ছোট সবুজ পাহাড় আর মাঝখানে স্বচ্ছ পানির লেক। যেখানে গিরি-লেক মিলনস্থলে ছায়া হয়ে দিগন্তে মিশে গেছে নীল আকাশ। এ যেন শিল্পীর ক্যানভাসে কল্পনার রঙে আঁকা ছবি।

মীরসরাইয়ের এই সৌন্দর্যকে দেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর মানুষের কাছে আরও সহজে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও একধাপ এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বর্তমানে এখানে নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া মহা প্রকল্প। যেখানে অসংখ্য পাহাড়ের বুক চিরে আসা ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ি ছড়ার মিলন মোহনায় রয়েছে স্বচ্ছ সবুজ পানির লেক। পাহাড়ি ঝরনা প্রবাহ হতে সৃষ্ট এই লেক সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঝরনা

মীরসরাই উপজেলায় প্রাকৃৃতিক সৌন্দযের্রও আঁধার মহামায়া লেক টিলা ও পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে বয়ে চলা এ লেক ভ্রমণ পিয়াসী মানুষদের আকৃষ্ট করে। লেকের স্বচ্ছ পানি ও পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণাধারা; যেন প্রকৃতির এক মায়াবী কন্যা। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কি. মি. উত্তরে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মীরসরাই উপজেলার ৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ কৃত্রিম লেকটি।

অপরূপ দৃশ্য

স্বচ্ছ পানির লেক, ঠান্ডা পানির ঝর্ণা, সবুজ পাহাড় আর নীলাকাশসহ সব মায়াই আছে মহামায়া লেকে। মহামায়া লেককে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে ইকোপার্ক। আছে রাবার ড্যাম। কাজের ব্যস্ততা ভুলে প্রকৃতির সাথে অবকাশ কাটানোর জন্য শান্ত ও কোলাহল মুক্ত খুব সুন্দর একটা স্থান। ১১ বর্গ কি.মি. বিশাল এই লেকে আপনি ইচ্ছামত নৌকা দিয়ে ঘুরতে পারবেন। ঝর্ণাতে গিয়ে সময় কাটাতে পারবেন সর্বোপরি লেকের সবুজ পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে। আর নৌকা দিয়ে লেকে ঘুরাঘুরির করার সময় আপনার চোখে পড়বে মহামায়ার সৌন্দর্য এবং পাহাড়ের অপরূপ মেলবন্ধন আপনাকেই হাতছানি দিয়ে ডাকছে। লেকের চারিধারে বড়শি প্রতিযোগিদের অবস্থান চোখে পড়ার মতো। লেকের পাহাড়ে চাষিদের বিভিন্ন ধরণের ফলজ, ঔষধি, বনজ, সবজি চাষ, লেকে মাছ চাষ অতিথি পাখিদের আনাগোনা আপনাকে বাংলার চিরচরিত গ্রামীণ দৃশ্যপট মুগ্ধ করবেই।

লেক পাহাড়ের অপরূপ মেলবন্ধন

ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে মহামায়ায় যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে যেতে হলে কমলাপুর, আরামবাগ বা সায়েদাবাদ থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে টিকিট কাটুন। নামতে পারেন বারইয়ারহাট, মিরসরাই বা বড়তাকিয়া স্টেশনে। অথবা নামতে পারেন ঠাকুর দীঘি এলাকায়। ঠাকুর দিঘি থেকে মহামায়া জনপ্রতি মাত্র ১৫ টাকা ভাড়া। অবশ্যই বাসের ড্রাইভার এবং গাইডকে আগেই বলে রাখবেন। এবং অব্যশই ফেনী পার হওয়ার পর প্রস্তুতি রাখবেন। বারইয়ারহাট, মিরসরাই বা বড়তাকিয়া যেখানেই নামেন না কেন সিএনজি অটোরিকশা বা অন্য কোনো বাহনে ঠাকুরদীঘি বাজারে এসে পূর্ব দিকের রাস্তা দিয়ে মহামায়ায় প্রবেশ করতে হবে। নিজস্ব যানবাহন নিলে একেবারেই মহামায়ার গেটে নামতে পারবেন। গাড়ি ভেদে নির্ধারিত ফি দিয়ে টিকিট কেটে নিশ্চিন্তে ঢুকে যাবেন ভেতরে।

চট্টগ্রাম থেকে আসতে চাইলে বারইয়ারহাট বা ফেনীগামী যেকোনো বাসে উঠলেই হবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই মিরসরাই বা বড়তাকিয়া স্টেশনে নেমে যেতে হবে। বাইরে বেশ কিছু খাবারের দোকান পাবেন। পাশাপাশি তিনটি রেস্তোরাঁ আছে।

মিরসরাই এলাকায় পরিবার–পরিজন নিয়ে থাকার ভালো মানের হোটেলের খোঁজ পাওয়া যায়নি। চাইলে চট্টগ্রাম শহরেই থেকে মহামায়ার মায়া উপভোগ করতে পারেন। মিরসরাই অঞ্চলে এক দিনে ভ্রমণের আরও কয়েকটি নয়নাভিরাম পর্যটনকেন্দ্র আছে। সেসবের গল্প না হয় আরেক দিন হোক।

পর্যটকদের জন্য সুখবর: প্লাস্টিকের বিনিময়ে টাকা পাবে সাজেকের পর্যটকরা!

রাঙামাটির সাজেক ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকরা ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাবেন বিনিময়ে নগদ টাকা। এরকম সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে এবারই প্রথম। অসাধারণ একটা সিদ্ধান্ত।

দেশের পর্যটন এলাকার পরিবেশ দূষণ কমাতে ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা নেওয়ার এ উদ্যোগ নিয়েছে ট্যুরিস্ট গ্রুপ ওয়াইল্ড ট্যুরিজম বাংলাদেশ। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বিনিময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারি রাঙামাটির সাজেকে ভ্রমণ আয়োজন করেছে ওয়াইল্ড ট্যুরিজম বাংলাদেশ। সেখানে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা প্লাস্টিকের একটি মোড়কজাত প্যাকেট জমা দিলে ১ টাকা, দেড় লিটার পর্যন্ত পানির বোতল ২ টাকা, দুই লিটারের পানির বোতল ৩ টাকা এবং ৫ লিটারের পানির বোতল এনে দিলে ৫ টাকা পাবেন।

ওয়াইল্ড ট্যুরিজম বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেফায়েত শাকিল বলেন, ‘বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা ব্যাপক। কিন্তু অসাবধানতার কারণে মানুষের ফেলে রাখা বিভিন্ন উচ্ছিষ্টে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে। প্লাস্টিকে চাপা পড়ে বিলীন হচ্ছে সেন্টমার্টিনের প্রবাল। আমরা মনে করি, পর্যটকদের মধ্যে যদি প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় সচেতনতাবোধ জাগ্রত করা যায় তাহলে সারাদেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

বন্ধুরা: এবারের শীতে সাজেকেই ট্যুর করেন। আর প্লাস্টিক কুড়িয়ে টাকা আয় করুন।

কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি চট্টগ্রাম: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন

কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি চট্টগ্রাম। ইংরেজি: Commonwealth War Cemetery Chittagong. কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশনের একটি সৌধ যেটি সাধারণভাবে চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি নামে পরিচিত।

সবুজ পাতাবাহারের বেষ্টনী ঘেরা কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি

অবস্থান

কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি চট্টগ্রাম শহরের দামপাড়া এলাকায়। ১৯ নং বাদশা মিয়া চৌধুরী সড়কে অবস্থিত। এটি মেডিকেল কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, চট্টেশ্বরী সড়কের চারুকলা ইনস্টিটিউটের কাছাকাছি এবং ফিনলে গেস্ট হাউসের নিকটবর্তী পাহাড়ি ঢালু আর সমতল ভূমিতে গড়ে উঠেছে। এটি শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ২২ কিমি উত্তরে এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮ কিমি দূরে অবস্থিত। সমাধি এলাকা সবুজ বৃক্ষ আর পাতাবাহারের বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। ওয়ার সিমেট্রির প্রতিষ্ঠাকালে এলাকাটি বিশাল ধানক্ষেত ছিলো। যদিও বর্তমানে এটি বেশ উন্নত এলাকা এবং শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত। পঞ্চাশের দশকের প্রথমার্ধে নির্মিত এ সিমেট্রির বাইরের অংশে খোলা মাঠ রয়েছে।

দর্শনার্থীর জন্য উম্মুক্তের সময়:

প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা এবং বিকেল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্যে প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত। তবে এখন শীতকালীন মৌসুমে এ সময়সূচির কিছুটা পরিবর্তন ঘটে থাকে। কোলাহলমুক্ত এই সমাধি এলাকায় দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও এখানে বসা নিষেধ।

সিমেট্রি প্রবেশদ্বার

ইতিহাস জানুন:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এই সমাধিসেৌধ প্রতিষ্ঠা করে। সূচনালগ্নে এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রায় ৪০০টি সমাধি ছিলো। তবে বর্তমানে এখানে ৭৩১টি সমাধি বিদ্যমান যার ১৭টি অজানা ব্যক্তির। এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাতীয় বিদেশী সৈন্যদের প্রায় ২০টি (১জন ওলন্দাজ এবং ১৯জন জাপানি) সমাধি বিদ্যমান। এছাড়াও এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) চট্টগ্রাম-বোম্বের একটি স্মারক বিদ্যমান।

যুদ্ধ চলাকালীন সময় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং ১৫২ নং ব্রিটিশ জেনারেল হাসপাতালের সুবিধার কারণে চট্টগ্রামে মিত্র বাহিনী চতুর্দশ সেনাবাহিনীর এই পথিকৃৎ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। হাসপাতালটি ডিসেম্বর ১৯৪৪ থেকে অক্টোবর ১৯৪৫ পর্যন্ত সক্রিয় ছিলো। প্রাথমিকভাবে এই সমাধিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪০০ মৃতদেহ সমাহিত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও যুদ্ধ শেষে অতিরিক্ত মৃতদেহ লুসাই, ঢাকা, খুলনা, যশোর, কক্সবাজার, ধোয়া পালং, দোহাজারি, রাঙ্গামাটি, পটিয়া এবং অন্যান্য অস্থায়ী সমাধিস্থান থেকে এই সমাধিস্থানে স্থানান্তর করা হয়।

সমুদ্রের অতলে ডুবে যাওয়া ৬৫০০ নাবিক ও জাহাজের লস্করের নামের তালিকা। যারা দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের প্রাণ হারায়্

যেভাবে যাবেন:

চট্টগ্রাম বিমান বন্দর থেকে এটির দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। বিমানবন্দর থেকে টেক্সিক্যাপ কিংবা যেকোনো গাড়ি নিয়ে সরাসরি চলে আসতে পারেন। সময় লাগবে ১ ঘণ্টা। চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। রিক্সা, সিএনজি করে মিনিটের মধ্যে পৌঁছা যাবে। দামপাড়া বাস স্টেশন, জিইসি মোড় এবং ওয়াসা থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার। রিক্সা করেও যাওয়া যাবে।

থাকবেন কোথায়:

ওয়ার সিমেট্টির এক কিলোমিটারের মধ্যে হাজার খানেক থাকার হোটেল রয়েছে। সাধারণ হোটেল থেকে ৫ তারকা হোটেলও রয়েছে। যে যার সামর্থ অনুযায়ী হোটেল বেছে নিয়ে উঠে যাবেন।

ট্রাভেল কোম্পানী:

আপনি যদি চট্টগ্রামকে দেখতে একজন গাইড নিতে আগ্রহী হোন তাহলে যোগযোগ করুন।
চিটাগং ওয়াকস আপনাকে পুরো শহরের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখাবে। ইতিহাস-ঐতিহ্য জানাবে।
যোগাযোগ: ০১৬৪৮০১৬১৬৬

বিচিত্র ৩ রহস্যময় স্থান

রক্ত প্রপাত: অ্যান্টার্কটিকার বরফের চাঁইয়ের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে আসা এই রক্তপ্রপাত। আসল কথা হলো, সেগুলো রক্ত নয়, লাল তরল। বরফের অনেক অনেক নীচে সালফার ও লোহার কোন নদী বয়ে গিয়েছে। যার রঙ সঙ্গত কারণেই লাল। আর সেটাই এই লাল রক্তের উৎস।

চুম্বক পাহাড়:

চুম্বক পাহাড়: পুরো পাহাড়টিই চুম্বক। এই পাহাড়ের পাশ দিয়ে কোনো গাড়ি বা উড়োজাহাজ গেলেই নিজের দিকে টেনে নেয়। এটি নিউ ব্রুন্সউইকের মঙ্কটনে অবস্থিত। ধারণা করা হয় এই পাহাড়ে রয়েছে চৌম্বকীয় শক্তি যা কিনা লৌহদ্রহকে এগোতে-পিছাতে বা টানতে সাহায্য করে।

লাঙ্গিয়ারবিন: পৃথিবীর সবচাইতে অদ্ভুদ স্থান এটি। ব্রিটিশদের সম্পর্কে একটা উক্তি বেশ বিখ্যাত। আর সেটি হলো- ব্রিটিশ রাজত্বে কখনো সূর্য ডোবেনা। এই কথাটা কিন্তু তাত্ত্বিক ভাবে সত্য নয়। কিন্তু নরওয়ের এই স্থানটিকে দেখলে আপনার এই প্রশ্নটি অমূলক হয়ে যাবে। বিশেষ করে সময়টা যদি হয় এপ্রিলের ২০ তারিখ থেকে আগস্টের ২৩ তারিখ হয়। এ সময় লাঙ্গিয়ারবিনে গেলে এটা বলা মুশকিল হয়ে পড়ে যে ঠিক কখন সেখানে সকাল হচ্ছে, কখন রাত! এমনকি মাঝরাতেও সেখানে তখন থাকে ফকফকা আলোর রাশি

Design a site like this with WordPress.com
Get started