কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি চট্টগ্রাম: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন

কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি চট্টগ্রাম। ইংরেজি: Commonwealth War Cemetery Chittagong. কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশনের একটি সৌধ যেটি সাধারণভাবে চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি নামে পরিচিত।

সবুজ পাতাবাহারের বেষ্টনী ঘেরা কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি

অবস্থান

কমনওয়েলথ ওয়ার সিমেট্রি চট্টগ্রাম শহরের দামপাড়া এলাকায়। ১৯ নং বাদশা মিয়া চৌধুরী সড়কে অবস্থিত। এটি মেডিকেল কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, চট্টেশ্বরী সড়কের চারুকলা ইনস্টিটিউটের কাছাকাছি এবং ফিনলে গেস্ট হাউসের নিকটবর্তী পাহাড়ি ঢালু আর সমতল ভূমিতে গড়ে উঠেছে। এটি শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ২২ কিমি উত্তরে এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮ কিমি দূরে অবস্থিত। সমাধি এলাকা সবুজ বৃক্ষ আর পাতাবাহারের বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। ওয়ার সিমেট্রির প্রতিষ্ঠাকালে এলাকাটি বিশাল ধানক্ষেত ছিলো। যদিও বর্তমানে এটি বেশ উন্নত এলাকা এবং শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত। পঞ্চাশের দশকের প্রথমার্ধে নির্মিত এ সিমেট্রির বাইরের অংশে খোলা মাঠ রয়েছে।

দর্শনার্থীর জন্য উম্মুক্তের সময়:

প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা এবং বিকেল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্যে প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত। তবে এখন শীতকালীন মৌসুমে এ সময়সূচির কিছুটা পরিবর্তন ঘটে থাকে। কোলাহলমুক্ত এই সমাধি এলাকায় দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও এখানে বসা নিষেধ।

সিমেট্রি প্রবেশদ্বার

ইতিহাস জানুন:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী এই সমাধিসেৌধ প্রতিষ্ঠা করে। সূচনালগ্নে এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রায় ৪০০টি সমাধি ছিলো। তবে বর্তমানে এখানে ৭৩১টি সমাধি বিদ্যমান যার ১৭টি অজানা ব্যক্তির। এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাতীয় বিদেশী সৈন্যদের প্রায় ২০টি (১জন ওলন্দাজ এবং ১৯জন জাপানি) সমাধি বিদ্যমান। এছাড়াও এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) চট্টগ্রাম-বোম্বের একটি স্মারক বিদ্যমান।

যুদ্ধ চলাকালীন সময় সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং ১৫২ নং ব্রিটিশ জেনারেল হাসপাতালের সুবিধার কারণে চট্টগ্রামে মিত্র বাহিনী চতুর্দশ সেনাবাহিনীর এই পথিকৃৎ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। হাসপাতালটি ডিসেম্বর ১৯৪৪ থেকে অক্টোবর ১৯৪৫ পর্যন্ত সক্রিয় ছিলো। প্রাথমিকভাবে এই সমাধিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ৪০০ মৃতদেহ সমাহিত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও যুদ্ধ শেষে অতিরিক্ত মৃতদেহ লুসাই, ঢাকা, খুলনা, যশোর, কক্সবাজার, ধোয়া পালং, দোহাজারি, রাঙ্গামাটি, পটিয়া এবং অন্যান্য অস্থায়ী সমাধিস্থান থেকে এই সমাধিস্থানে স্থানান্তর করা হয়।

সমুদ্রের অতলে ডুবে যাওয়া ৬৫০০ নাবিক ও জাহাজের লস্করের নামের তালিকা। যারা দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের প্রাণ হারায়্

যেভাবে যাবেন:

চট্টগ্রাম বিমান বন্দর থেকে এটির দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। বিমানবন্দর থেকে টেক্সিক্যাপ কিংবা যেকোনো গাড়ি নিয়ে সরাসরি চলে আসতে পারেন। সময় লাগবে ১ ঘণ্টা। চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। রিক্সা, সিএনজি করে মিনিটের মধ্যে পৌঁছা যাবে। দামপাড়া বাস স্টেশন, জিইসি মোড় এবং ওয়াসা থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার। রিক্সা করেও যাওয়া যাবে।

থাকবেন কোথায়:

ওয়ার সিমেট্টির এক কিলোমিটারের মধ্যে হাজার খানেক থাকার হোটেল রয়েছে। সাধারণ হোটেল থেকে ৫ তারকা হোটেলও রয়েছে। যে যার সামর্থ অনুযায়ী হোটেল বেছে নিয়ে উঠে যাবেন।

ট্রাভেল কোম্পানী:

আপনি যদি চট্টগ্রামকে দেখতে একজন গাইড নিতে আগ্রহী হোন তাহলে যোগযোগ করুন।
চিটাগং ওয়াকস আপনাকে পুরো শহরের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখাবে। ইতিহাস-ঐতিহ্য জানাবে।
যোগাযোগ: ০১৬৪৮০১৬১৬৬

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started