
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লেক মীরসরাইয়ের মহামায়া। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি। ছোট ছোট সবুজ পাহাড় আর মাঝখানে স্বচ্ছ পানির লেক। যেখানে গিরি-লেক মিলনস্থলে ছায়া হয়ে দিগন্তে মিশে গেছে নীল আকাশ। এ যেন শিল্পীর ক্যানভাসে কল্পনার রঙে আঁকা ছবি।
মীরসরাইয়ের এই সৌন্দর্যকে দেশের সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর মানুষের কাছে আরও সহজে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও একধাপ এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বর্তমানে এখানে নির্মিত হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া মহা প্রকল্প। যেখানে অসংখ্য পাহাড়ের বুক চিরে আসা ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ি ছড়ার মিলন মোহনায় রয়েছে স্বচ্ছ সবুজ পানির লেক। পাহাড়ি ঝরনা প্রবাহ হতে সৃষ্ট এই লেক সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মীরসরাই উপজেলায় প্রাকৃৃতিক সৌন্দযের্রও আঁধার মহামায়া লেক টিলা ও পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে বয়ে চলা এ লেক ভ্রমণ পিয়াসী মানুষদের আকৃষ্ট করে। লেকের স্বচ্ছ পানি ও পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণাধারা; যেন প্রকৃতির এক মায়াবী কন্যা। চট্টগ্রাম শহর থেকে ৪৫ কি. মি. উত্তরে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মীরসরাই উপজেলার ৮নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ কৃত্রিম লেকটি।

স্বচ্ছ পানির লেক, ঠান্ডা পানির ঝর্ণা, সবুজ পাহাড় আর নীলাকাশসহ সব মায়াই আছে মহামায়া লেকে। মহামায়া লেককে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে ইকোপার্ক। আছে রাবার ড্যাম। কাজের ব্যস্ততা ভুলে প্রকৃতির সাথে অবকাশ কাটানোর জন্য শান্ত ও কোলাহল মুক্ত খুব সুন্দর একটা স্থান। ১১ বর্গ কি.মি. বিশাল এই লেকে আপনি ইচ্ছামত নৌকা দিয়ে ঘুরতে পারবেন। ঝর্ণাতে গিয়ে সময় কাটাতে পারবেন সর্বোপরি লেকের সবুজ পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে। আর নৌকা দিয়ে লেকে ঘুরাঘুরির করার সময় আপনার চোখে পড়বে মহামায়ার সৌন্দর্য এবং পাহাড়ের অপরূপ মেলবন্ধন আপনাকেই হাতছানি দিয়ে ডাকছে। লেকের চারিধারে বড়শি প্রতিযোগিদের অবস্থান চোখে পড়ার মতো। লেকের পাহাড়ে চাষিদের বিভিন্ন ধরণের ফলজ, ঔষধি, বনজ, সবজি চাষ, লেকে মাছ চাষ অতিথি পাখিদের আনাগোনা আপনাকে বাংলার চিরচরিত গ্রামীণ দৃশ্যপট মুগ্ধ করবেই।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে মহামায়ায় যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে যেতে হলে কমলাপুর, আরামবাগ বা সায়েদাবাদ থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো বাসে টিকিট কাটুন। নামতে পারেন বারইয়ারহাট, মিরসরাই বা বড়তাকিয়া স্টেশনে। অথবা নামতে পারেন ঠাকুর দীঘি এলাকায়। ঠাকুর দিঘি থেকে মহামায়া জনপ্রতি মাত্র ১৫ টাকা ভাড়া। অবশ্যই বাসের ড্রাইভার এবং গাইডকে আগেই বলে রাখবেন। এবং অব্যশই ফেনী পার হওয়ার পর প্রস্তুতি রাখবেন। বারইয়ারহাট, মিরসরাই বা বড়তাকিয়া যেখানেই নামেন না কেন সিএনজি অটোরিকশা বা অন্য কোনো বাহনে ঠাকুরদীঘি বাজারে এসে পূর্ব দিকের রাস্তা দিয়ে মহামায়ায় প্রবেশ করতে হবে। নিজস্ব যানবাহন নিলে একেবারেই মহামায়ার গেটে নামতে পারবেন। গাড়ি ভেদে নির্ধারিত ফি দিয়ে টিকিট কেটে নিশ্চিন্তে ঢুকে যাবেন ভেতরে।
চট্টগ্রাম থেকে আসতে চাইলে বারইয়ারহাট বা ফেনীগামী যেকোনো বাসে উঠলেই হবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই মিরসরাই বা বড়তাকিয়া স্টেশনে নেমে যেতে হবে। বাইরে বেশ কিছু খাবারের দোকান পাবেন। পাশাপাশি তিনটি রেস্তোরাঁ আছে।
মিরসরাই এলাকায় পরিবার–পরিজন নিয়ে থাকার ভালো মানের হোটেলের খোঁজ পাওয়া যায়নি। চাইলে চট্টগ্রাম শহরেই থেকে মহামায়ার মায়া উপভোগ করতে পারেন। মিরসরাই অঞ্চলে এক দিনে ভ্রমণের আরও কয়েকটি নয়নাভিরাম পর্যটনকেন্দ্র আছে। সেসবের গল্প না হয় আরেক দিন হোক।